সমাজে অনেক মানুষের আজ ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্টা হয়নি। অন্ন,বস্ত্র, বাসস্থান,শিক্ষা,চিকিৎসা, বর্তমানে নিরাপত্তা ও বিনোদন। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও দেশে অনেক উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ছাড়াও জেলা শহরগুলোতে গড়ে উঠেছে অট্টালিকা। কিন্তু উন্নয়ন হয়নি আসমানীদের। প্রতিষ্টা হয়নি মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন হয়নি। আসমানীরা যুগে যুগেই অভাব-অভিযোগ, অর্ধাহারে-অনাহারে দিন যাপন করছে। হয়ত বিধাতার রহস্যের কারণেই অসহায় দারিদ্রতা দারিদ্রই থেকে যাচ্ছে, দারিদ্রকে অতিক্রম করতে পারছে না। হয়তবা ধনীদের পরীক্ষার জন্যই বিধাতার এমন রহস্য।
অন্যদিকে কেউ কেউ বৈধ-অবৈধভাবে উপার্জন করে হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যাচ্ছে অথচ সমাজে অবহেলিত, অধিকার বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। সমাজের অবহেলিত দুঃখী নারীদের নিয়ে পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের সেই বিখ্যাত কবিতা ‘আসমানী’ এখন কোন পাঠ্যবইতে নেই।
অথচ সেই আসমানীরা এখনো সমাজে দৃশ্যমান। সেই কবিতাটি পাঠ্য তালিকায় থাকলে আজকের তরুণ-তরুণীরা, যারা দালান কোঠায় বড় হচ্ছে, তারা অসহায় নারীদের প্রতিচ্ছবি সেই কবিতার মধ্যে খুঁজে পেত এবং অসহায় মানুষের প্রতি মমতাবোধ তৈরী হতো। মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনোদনের যে মৌলিক অধিকার রয়েছে,আমাদের সমাজে আসমানীদের সেই মৌলিক কোন অধিকার নেই।
অথচ তারা এই স্বাধীন দেশের নাগরিক। তারাও মৌলিক অধিকার নিয়ে বাঁচতে চায়। জসিম উদ্দিনের আসমানী কবিতায়, আসমানীদের দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসূলপুরে যাও। বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি। একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে, তারি তরে আসমানীরা থাকে বছর ভরে। পেটটি ভরে পায়না খেতে বুকের ক-খানহাড়, সাক্ষী দিচ্ছে অনাহারে কদিন গেছে তার।
একবিংশ শতাব্দীর এই যুগে অসংখ্য দালান কোঠা ও অট্টালিকার মধ্যেও আসমানীরা রয়ে গেছে যুগে যুগে। কালের পরিক্রমায় অনেকের ভাগ্যের চাকা ঘুরলেও আসমানীদের ভাগ্যের চাকা কোথায় যেন আটকে রয়েছে। ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব কাতালিয়া গ্রামে বাদশা মিয়ার বাড়ীতে মা-মেয়ে দুজন এখনো জীবিকা নিরবাহ করেন ভিক্ষা করে।
তাদের নাম ফাতেমা বেগম, বিবি হাজেরা (কালি)। ফাতেমা স্বামী মৃত আবুল হাসেম স্বামীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বলতে ঘর ভিটা । পিতৃ বাড়ী একই ইউনিয়নের মরুয়ার চর গ্রামে। সেখানেও তার কোন স্থাবর সম্পত্তি নেই। ফাতেমা বেগমের ঘর বলতে কিছুই ছিলনা। ঝরাজীর্ণ ঘর। সেই ঘরে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে মা ফাতেমা বেগম ও মেয়ে বিবি হাজেরার বসবাস। তার একটি মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এলো স্বদেশপত্র ফাউন্ডেশন। স্বদেশপত্র ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্মিত হলো একটি ঘর। এইটি স্বদেশপত্র ফাউন্ডেশন তিন নাম্বার ঘর। ঘর নির্মানে সহায়তায় ছিলেন,স্বদেশপত্র ফাউন্ডেশন,ফেনী বাণী চিত্র, ফকির হাট আবুবকর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র কল্যান পরিষদ ।





