নেপোলিয়ন বলেছিলেন আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো।শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। সুর্য ছাড়া যেমন অন্ধকার এই পৃথিবী ঠিক তেমনি শিক্ষার আলো ছাড়া অন্ধকার মানুষের মনোজগৎ। কিন্তু বর্তমান করোনা মহামারির কারনে শিক্ষা ব্যবস্থার নাজাহাল অবস্থা। শিশুরা কি ভাবে সংক্রমনের আশংকা এড়িয়ে স্কুলে যাবে? প্রতিষেধক টিকা এখোনো দুর্রস্ত। তাহলে শিক্ষার্থীদের মহামূল্যবান সময় গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে না! করোনার এই ভয়াল পরিস্থিতিতে এখন শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে অনলাইন শিক্ষা। বিশ্বের ধনী দেশ গুলোর সাথে তাল মিলিয়ে উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোতেও অনলাইন শিক্ষা বেশ আশা জাগাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে অনলাইন শিক্ষা কি সকলের দ্বারস্থ নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে?
জাতিসংঘের বিজ্ঞান,সংস্কতি এবং শিক্ষা সংস্থা ইউনেস্কো বলেছে,চলতি সপ্তাহ নাগাদ কোভিড-১৯ এর কারনে স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থাকার সত্ত্বে ও বিশ্বব্যাপী ৮৫ কোটি শিক্ষার্থী এখন শিক্ষা বা কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত।বিশ্বের অনেক দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থীদের নেই ইন্টারনেট সংযোগ। এমনকি অনলাইনে লেখাপড়ার জন্য নেই স্মার্টফোন। তাই প্লাস্টিক বেচে ইন্টারনেট খরচের জোগাড় করেছে ইন্দোনেশীয়ার দিমাস আনোয়ার পুত্রা। আর ইন্টারনেট সংযোগ পেতে গাছের উপরে ওঠার খবর ও আমরা গণমাধ্যমে পড়েছি।ইউনিসেফের প্রকাশ করা একটি প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, করোনার কারনে দীর্ঘস্থায়ী জাতীয়গত লকডাউন প্রভাব ফেলেছে প্রয় দেড় বিলিয়ন শিক্ষার্থীর উপর। সামর্থ্য অনুযায়ী যারা পারছে তারা এই হ্মতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারলেও শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে চলে গেছে অনেক শিক্ষার্থী।সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চিলে ৪৯ শতাংশ শিশুই অনলাইন শিক্ষা পদ্ধতি থেকে বঞ্চিত।এর সংখ্যা পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় ৪৮ শতাংশ, উওর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে ৪০ শতাংশ।এছাড়া ও দক্ষিণ এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল মিলিয়ে বিশ কোটি ছাত্রছাত্রী শ্রেণী কক্ষের বাইরে থেকে কোনো রকম শিক্ষা গ্রহনের সামর্থ্য নেই।সব মিলিয়ে দেখা যায় বিশ্বের।
বিশ্বের কিছু দেশে ইতোমধ্যে স্কুলে পড়া শুরু হয়েছে।কিন্তু তারা অধিকাংশই উন্নত বিশ্ব। এখোনো বিদ্যালয় বন্ধ প্রায় ৫২ টি দেশে। অন্য অন্য দেশের মতো করোনায় বাংলাদেশের অবস্থা ও হুমকির মুখে। বাংলাদেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগীর সনাক্তের ৯ দিন পর অর্থাৎ ১৭ মার্চ থেকে সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। মহামারির কারনে ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়ছে পঞ্চম ও অষ্টম এবং এইচএসসি পরীক্ষা মতো পাবলিক পরীক্ষা। এবং বাতিল করা হয়েছে মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল পরীক্ষা। তদের মূল্যায়ন হবে এসাইনমেন্টের মাধ্যমে। তবে চারটি শর্ত দিয়ে অক্টোবর ও নভেম্বরে ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালনায় ইংরেজী মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ”ও” এবং “এ” লেভেল পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার। উন্নত দেশগুলোর মত বাংলাদেশেও অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও দরিদ্র ও তৃণমূলের শিক্ষার্থীরা সর্বক্ষেএে অবহেলিত। না আছে তাদের স্মার্টফোন, না আছে ভালো ইন্টারনেট ব্যবস্থা।টিভিতে ক্লাস হলেও অনেক শিক্ষার্থীদের নেই টিভি।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক তথ্য বলা হয়েছে, দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রয় পোনে ৩ কোটি।ইতোমধ্যে এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পড়ালোখার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পেলছে। আবার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইন পাঠ দান করলেও তাদের পাঠ দান মানসম্মত নয়। প্রথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরিপ অনুযায়ী,পঞ্চম শ্রেণীর ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশনে ক্লাস করছে। এর মানে হলো প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বঞ্চিত।মাধ্যমিক স্তরের চিত্র ও প্রায় একই।সব হিসেব করে দেখা যায় যে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত। মোদ্দ কথা, অনলাইন শিক্ষা উন্নত দেশগুলো এবং সামর্থবান শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ হলেও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী অর্থাৎ যারা দরিদ্র এবং তৃণমূলের শিক্ষার্থীদের জন্য অভিশাপ।
লেখক : মোহাম্মদ নাদের হোসেন ভূঁইয়া, শিক্ষার্থী-জয়নাল হাজারী কলেজ,ফেনী।






