বিশেষ প্রতিনিধি : ক্যাসিনো কান্ডে গত ৬ অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল ঢাকা যুবলীগ দক্ষিণের বহিস্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে।
পরে ১৫ অক্টোবর মাদক ও অস্ত্র মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে ১০ দিন তাকে হেফাজতে রাখার অনুমতি পায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার সম্রাটকে ঢাকার আদালতে ফেরত পাঠানো হয়। তাকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো আবেদন করেননি তদন্ত কর্মকর্তা। আর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেননি সম্রাট।
এদিকে রিমান্ড শেষ না হতেই ইডেন নেত্রী ও যুবলীগ নেত্রীদের মধুগুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে আদালত প্রাঙ্গন ও কারাগার প্রাঙ্গণে।
রিমান্ড শেষে সম্রাটকে কারাগারে পাঠানো হলে শুক্রবার সকালে সম্রাটের স্ত্রী শারমিন সম্রাট চৌধুরী তার সাথে দেখা করতে গেলে কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্রাটের সাথে প্রতি সপ্তাহে তার পরিবার একবার করে দেখা করতে পারবে। কিন্তু ইতিমধ্যেই সকালে সম্রাটের বোন পরিচয় দিয়ে দেখা করেছেন ইডেন কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জেসমিন শামীমা নিঝুম এবং বদরুন্নেসা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবমহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসরিন সুলতানা ঝরা। এজন্য তার স্ত্রীকে দেখা করার সুযোগ দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ।
সম্রাটের স্ত্রী শারমিন চৌধুরী প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানান, ইডেনের মহিলানেত্রী সম্রাটের বোন পরিচয় দিয়ে দেখা করার কারণে আমি তার স্ত্রী হয়েও তার সাথে দেখা করার সুযোগ পাইনি।
তিনি আরো বলেন, এই মহিলা নেত্রীগুলোই বিভিন্ন এমপি মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে কলেজের বিভিন্ন মেয়েদেরকে নিয়ে যেতেন এবং তাদের ব্যবহারের জন্য দিয়ে আসতেন।
নিঝুম’র বিরুদ্ধে ইডেন কলেজের সভাপতি থাকার সময় এরকম শত শত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। নিঝুম বিভিন্ন শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ও এমপি-মন্ত্রীদের বাসায় যেতে বাধ্য করতেন এবং তাদের সাথে অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করতেন অন্যথায় হল থেকে বের করে দিতেন। প্রতি ছাত্রী থেকে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ভর্তি চুক্তি করতেন, এ নিয়ে বেশ কয়েকবার কলেজে হামলা মামলা হয়েছিল। বিভিন্ন পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় এবং এখনও সাক্ষী হয়ে রয়েছে।
নিঝুম ঝরাসহ আরো বেশ কয়েকজন মিলেই ঢাকা শহরের এই নিষিদ্ধ অনৈতিক পল্লীগুলো নিয়ন্ত্রণ করতেন।
সম্রাটের স্ত্রী শারমিন শারমিন চৌধুরী বলেন, সম্রাটের শরীর এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ নয়, ঢাকাতেই তার ভাল চিকিৎসা করানোর জন্য আবেদন করেছি। এবং দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবেদন করে চেষ্টা করে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর শুরুতে লোকজন নিয়ে কাকরাইলের কার্যালয়ে শো-ডাউন দিলেও পরে আড়ালে চলে যান সম্রাট। ৬ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামে স্টার লাইন পরিবহনের মুনীর হোসেন চৌধুরীর বাসা থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে আটক করে র্যাব।






