ভোলার বোরহানউদ্দিনে ‘তৌহিদি জনতা’র সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় আরও একজনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা তিনে দাঁড়লো। আহত হয়েছেন পুলিশসহ শতাধিক মানুষ।
জানা যায়, ফেসবুকে মহানবী (স.) নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে রোববার বেলা ১১টায় বোরহানউদ্দিন হাইস্কুল মাঠে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নিতে উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়ন থেকে কয়েক হাজার লোক একত্রিত হয়ে ‘নবী অবমাননা’ ও ‘আল্লাহ-কে নিয়ে কটূক্তিকারীর ফাঁসি চাই’- এমন স্লোগান দিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন। কিন্তু সমাবেশ তাড়াতাড়ি শেষ করতে তাগাদা দেন পুলিশ। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে পুলিশসহ আহত হন শতাধিক। আহতদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।
পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন- মিজান (৪০) ও মাফুজ পাটোয়ারি (৪৫)। অপরজন মারা যান ভোলা সদর হাসপাতালে। তার নাম জানা যায়নি।
ভোলার সিভিল সার্জন রথীন্দ্রনাথ মজুমদার ৩জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার সরকার মো. কায়সারও তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, অনুমতি ছাড়াই সমাবেশ করতে চাইলে আমরা তাদের দ্রুত শেষ করতে বলায় তারা কথা না শুনে আমাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি ছুড়তে বাধ্য হই আমরা।
উল্লেখ্য, বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের এক যুবক শুক্রবার বিকেলে নিজ ফেসবুক আইডি থেকে কয়েকজনের সঙ্গে মেসেঞ্জারে আল্লাহ ও রাসূল (স.)-কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। একপর্যায় কয়েকটি আইডি থেকে ম্যাসেজগুলোর স্ক্রিন শর্ট নিয়ে ফেসবুকে কয়েকজন প্রতিবাদ জানালে বিষয়টি সকলের নজরে আসে। পরবর্তীতে ফেসবুকজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।






