মোমিন শুভ : ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার দঃ সোনাপুর গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক মোঃ আবু তাহের। সম্পত্তি বলতে ভিটামাটি ছাড়া আর কিছু নেই। দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। বড় ছেলে ঢাকায় ছোট একটা চাকুরী করলেও গত কয়েকমাস যাবত বেকার। ছোট ছেলে ৮ম শ্রেনিতে অধ্যয়নরত। আর মেয়ে বিবাহের উপযুক্ত। সংসার চলে অন্যের বন্ধক জমি চাষ করে আর গরু লালন পালন করে। বিপদ যেন পিছু ছাড়ে না তাঁর। বিগত প্রায় তিন বছর আগে ওনার ছোট ছেলের ভ্যানগাড়ির চেইনে পা আটকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছেলের জন্য খরচ হয় প্রায় লাখ খানেক টাকা। চিকিৎসা খরচ জোগাতে হিমশিম খেয়েছেন, অর্থনৈতক অবস্থা হয়েছে শোচনীয়।
এর পরের বছরই ওনি নিজের এইবার দুর্ঘটনায় পতিত হলেন। গাছ কাটতে গিয়ে ছুটে আসা গাছের সজোরে ধাক্কা লাগে ওনার পায়ে। মুহুর্তের মধ্যেই পা একবারে থেতলে যায়। নিজের পায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে খরচ হলো আরো লাখ খানেক টাকা। এখন অব্ধি সম্পূর্ণ চিকিৎসা করাতে পারেন নি। পায়ের ভিতরের স্টিলের পাতগুলো টাকার জন্যে অপারেশন করে বের করতেও পারেন নি এখনো। এই যখন অবস্থা তখন পরের বছরই আবার দুর্ঘটনা ঘটলো। বাথরুমের কমডে পা আটকে গেলো ওনার স্ত্রীর। কেটে গেলো পায়ের পেছনের রগ। চিকিৎসা করতে গিয়ে আবারো হিমশিম খেলো। বারবার একটা পরিবারের ওপর এমন বিপদ আসলে তাদের অবস্থা কেমন হয় তা ভাষায় বর্ণনা করা যায়না।
এরপর ও চাষবাস করে কোনোভাবে চলছিলো ওনাদের সংসার। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, ভাগ্য যেন বারবার পরীক্ষা নিচ্ছেন তাদের। ৪ জুন ২০২০, বৃহঃ বার দুপুরে বজ্রপাতে মারা গেলো ওনার বাচুরসহ একটি গাভী। যার বাজারমূল্য প্রায় ৯০ হাজার টাকা। এমন অবস্থায় শোকের ছায়া নেমেছে পুরো পরিবারে। এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না দরিদ্র কৃষক আবু তাহের।
বিপদ আর দুর্ভাগ্য যেন কোনোভাবেই পিছু ছাড়ছে না এই অসহায় দরিদ্র কৃষক আবু তাহেরের।






