“ফেনীর রাজনৈতিক অঙ্গনে ফেনী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের শূন্য পদ নিয়ে যতযত জল্পনা কল্পনা আর পরিবার পরিকল্পনা চলছে। বলতে চাইছিলাম না। বন্ধুদের প্রবল ইচ্ছা চাপে বলতে হচ্ছে।
সবার আগে জানতে হবে ১৯১০-২০ সনের মধ্যে সরকারি আমিনগণ প্রতিটি ভূমিখণ্ড পরিমাপ করে উহার আয়তন, অবস্থান ও ব্যবহারের প্রকৃতি নির্দেশক মৌজা নকশা এবং প্রতিটি ভূমিখন্ডের মালিক দখলকারের বিররণ সংবলিত যে খতিয়ান তৈরি করেন তা সিএস খতিয়ান নামে পরিচিত।
সর্ব শেষ একই পদ্ধতির জরিপ ১৯৯০ সালে পরিচালিত হয়। যা বি এস খতিয়ান হিসাবে পরিচিত।
ঠিক একইভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠে ৬০-৭০ দশক সি এস ও ৯০ দশক বি এস খতিয়ান হিসেবে পরিচিত।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদটি সারাদেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান একক ইচ্ছা এবং সিদ্ধান্তে সি এস খতিয়ানের ত্যাগী প্রবীণ ও অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন নেতাদের উপহার হিসেবে দিয়ে আসছেন। সে ধারাবাহিকতায় ফেনী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে সি এস খতিয়ানের পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজ আহম্মেদ চৌধুরীকে অধিষ্টিত করেন। ৮১ বছর বয়সে গত ৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়। ইতোমধ্যে প্রায় দেড় বছর মেয়াদী শূন্য পদ পূরণে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে। সেই ফরমে একটি প্রশ্ন- ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আপনার কি ভূমিকা ছিল। এই প্রশ্নই বলে দেয় এ পদে দল সি এস খতিয়ানের গুরুত্বের ধারাবাহিকতার বাইরে নয়।
এ শূন্য পদে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করা হয় বি এস খতিয়ানের ছুট দাগের খায়রুল বাশার তপনকে। তিনি এই প্রশ্নের উত্তরে নিশ্চয় লিখবেন তিনি তখন প্রাথমিক স্কুল ছাত্র। বি এস খতিয়ানের বর্ণনাতেও উল্লেখ করতে পারবেন না যে তিনি আওয়ামী ছাত্রলীগ বা যুবলীগ করেছেন।
অন্যদিকে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগে প্রার্থীর প্রতিপক্ষ শক্তিশালী প্রার্থী সি এস খতিয়ানের জয়নাল হাজারী। একই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলবেন তাঁর গৌরব গাঁথা গল্প। বি এস খতিয়ানের বর্ণনায় গাঁথবেন সাংগঠনিক ভারী পদ আর শক্তিশালী জন প্রতিনিধিত্বের কথা। তবে একমাত্র শারীরিক অক্ষমতাই তাঁকে কাবু করে ফেলতে পারে, না হলে আর কিছু নয়।
ফেনী জেলা আওয়ামী লীগে সি এস খতিয়ানের নেতা সংকট ? নাকি পরিবার পরিকল্পনার বন্ধত্ব ? এমন প্রশ্ন জেগে উঠাই এখন একেবারেই স্বাভাবিক।”
©®বখতেয়ার মুন্না, ব্যুরো প্রধান, সময় টেলিভিশন।






