
বিশেষ প্রতিনিধিঃ- ফেনীর সোনাগাজীতে গণটিকাদান কেন্দ্রে ১০ মিনিটের ব্যবধানে এক নারীকে দুবার করোনার টিকা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের বকুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় টিকাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ। গত রোববার বিকেলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ওই নারীর নাম বিবি রোকেয়া (৩৫)। তিনি উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের বড় হালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ভাষ্য, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে টিকার কার্ড নিয়ে তিনি নির্ধারিত কক্ষে টিকা নিতে যান। এ সময় কর্তব্যরত স্বাস্থ্য সহকারী তাঁকে একটি টিকা দিয়ে বসতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁকে আবার টিকা দেওয়া হয়।
ওই নারীর স্বামী মোহাম্মদ আলী বলেন, ওই দিন তাঁরা স্বামী-স্ত্রী দুজনে টিকা নিতে কেন্দ্রে যান। মানুষের ভিড়ের কারণে তিনি টিকা নিয়ে স্ত্রীর জন্য বাইরে অপেক্ষা করেন। প্রায় ২০ মিনিট পর টিকা নিয়ে তাঁর স্ত্রী বাইরে এলে তাঁকে দেরি হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। তখন তাঁর স্ত্রী তাঁকে জানান যে তাঁকে দুবার টিকা পুশ করা হয়েছে।
ওই টিকাকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য সহকারী একরামুল হক মোল্লা বলেন, এক নারীকে দুবার টিকা পুশ করার বিষয়টি তিনি জানতেন না। তিনি বিষয়টি জানার পর তিনি ওই নারীর খোঁজখবর নিয়েছেন। ওই নারী এখন ভালো আছেন। একটা টিকা নেওয়ার পর আরেকটি টিকা নেওয়া ওই নারীর ভুল ছিল। তিনি বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।
উপজেলার বগাদানা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইছহাক খোকন প্রথম আলোকে বলেন, শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি ওই কেন্দ্রে ছিলেন। এক নারীকে দুবার টিকা পুশ করার বিষয়টি তিনি জানতেন না। আজ সকালে স্বাস্থ্য সহকারী একরামুল হক মোল্লার কাছ থেকে বিষয়টি তিনি শুনেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎপল দাশ প্রথম আলোকে বলেন, টিকা নেওয়ার আগে কেন ওই নারী বলেননি যে তিনি আগে একবার টিকা নিয়েছেন। এটা টিকাগ্রহীতার ভুল। তিনিই দায়ী। তবে দুবার টিকা দেওয়া হলেও কোনো সমস্যা হবে না। তাঁর খোঁজখবর রাখা হবে। টিকাদানের ক্ষেত্রে কারও গাফিলতি ছিল কি না, সিভিল সার্জনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





