সাজ্জাদ হোসেন রাকিব : ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের উওর তারাকুছা গ্রামের আবদুল মালেক সওদাগরের বাড়ীটির পাশেই প্রবাহিত খাল। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির ও ভারতীয় পানির কারণে খালের পানি অনেক বেড়ে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। এতে ভেঙে যাচ্ছে খালের দু’পাশের পাড়, বিলীন হচ্ছে চাষাবাদের জমি ও বসতবাড়ি।
অতিবৃষ্টির তীব্র স্রোতে প্রতিবছর একটু একটু করে বসত ভিটার জমি ভাঙতে ভাঙতে আজ বসতভিটা হারাতে বসেছেন আব্দুল মালেক।
আবদুল মালেকের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমরা যখন এই বাড়িটি নির্মাণ করি তখন এই খাল আমাদের বাড়ি থেকে দূরে ছিল। প্রতিবছর বর্ষার অতিবৃষ্টির ও ভারতীয় পানির কারণে তীব্র স্রোতে ভাঙতে ভাঙতে আজ আমার বাড়ির আঙিনায় এসে পৌঁছে গেছে।
বিশেষ করে গত দু’বছরের অতিবৃষ্টিতে উপায়ন্তর না পেয়ে আমরা নিজেরাই দুই থেকে তিনবার খালের পাড় সংস্কার করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পাড় ভেঙে ফসলি জমিসহ আমাদের বসতভিটা হারাতে বসেছি।
তিনি আরো জানান, আমজাদহাট ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ডালিম মজুমদার’র মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আলিম মজুমদারের বরাবর একটি আবেদনও লিখেছি। কিন্তু এখনো তার কোনো ফলাফল পাইনি।
আমজাদহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মীর হোসেন মীরু ‘ফুলগাজী নিউজ ডটকম’কে জানান, এ সমস্যার কথা আমি বেশ কয়েকবার শুনেছি। এত বড় কাজ করার মত পরিষদের কোন বরাদ্দ নেই। তবে এই সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আমি আলোচনা করেছি।
এসময় ভুক্তভোগীদের খালের পাড়ে বাড়ি নির্মাণে ত্রুটি ছিল বলেও অভিযোগ জানান চেয়ারম্যান।
উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম মজুমদার জানান, এ বিষয়ে এর আগে কোনো অভিযোগ বা আবেদন পাইনি। আজ ফুলগাজী নিউজ ডটকম’র মাধ্যমে জানতে পারলাম। সমস্যা সম্পর্কে জানতে আজকে প্রতিনিধি পাঠাবো এবং সমাধানে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পরিবারের দাবি, এভাবে চলতে থাকলে একমাত্র বসতবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হতে হবে। এই মুহূর্তে কর্তৃপক্ষ যদি সহযোগিতা না করেন তবে খালের পানিতে ভেসে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
এই সময় তারা ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে সমস্যা সমাধানে অনুরোধ জানিয়েছেন।






