আবু ইউসুফ মিন্টু : একদিন ঠিকই আধাঁর কেটে যাবে, পূর্ব আকাশে নতুন সূর্য উঠবে। সেদিন পত্রিকার পাতায় কিংবা টিভির পর্দায় থাকবেনা করোনার কথা। চিরচেনা নগর আবার মানুষের ভিরে মুখরিত হবে। মসজিদেও ইবাদতে মসগুল থাকবে সব মুসল্লিরা । সামাজিকতা আর আত্বিয়তার মেলবন্ধনে থাকবে না কোন বিধি নিষেধ।
কিন্তু বর্তমানে করোনার প্রাদুর্ভাবে গত দুই মাসে কঠিন সময অতিবাহিত করছে পরশুরামের বিশাল একটা জনগোষ্ঠি। তাইতো কর্মহীন, গৃহবন্ধি পরিবারের সদস্যরা দু:সময়ে পাশে পাওয়া দানবির মানুষ গুলির কথা দরিদ্রদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে অনন্তকাল।
জেলা পরিষদ সদস্য এম সফিকুল হোসেন মহিম জানান, পরশুরামে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মহাসংকট কালে দরিদ্র, হতদরিদ্র, কর্মহীন, মধ্যবিত্ত, নিন্মবিত্ত সহ বিপন্ন মানুষের পাশে দাড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিন ভাই। তাদের ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে করোনাকালে নগদ অর্থ, চাল সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী দফায় দফায় বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।
জানা যায়, আলাউদ্দিন আহামেদ চৌধুরী নাসিম ফেনীর জন্য ৭০ মেট্রিক টন চাল জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। তারই ছোট ভাই জালাল উদ্দিন আহামেদ চৌধুরী পাপ্পু অনেককে নিরবে নিভৃতে নগদ অর্থ সহ খাদ্যসামগ্রী বিভিন্ন সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে গোপনে বিতরণ করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। আর মেয়র নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সাজেল সরকারি বরাদ্দ ছাড়াও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রায় ১শ টন চাল সহ ডাল, তেল, আলু, পেয়াজসহ বিপুল পরিমান খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। এছাড়াও মাক্স, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান সহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে পৌঁছে দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
নজরুল একাডেমি সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইউসুফ বকুল বলেন, উপমহাদেশ খ্যাত সঙ্গীত শিল্পী ভূপেন হাজারীকার মতে ‘মানুষ মানুষের জন্য…., জীবন জীবনের জন্য…, একটু সহানুভূতি কি পেতে পারে না বন্ধু…?’ এখনতো সময় মানুষের পাশে থাকার, মানুষের জন্য কিছু করার, সে লক্ষে চৌধুরী পরিবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বলেন যাদের আছে সক্ষমতা শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাব সামর্থ্যবান তারা অনেকেই আজ মহাভাগ্যবান। চৌধুরী পরিবারের মত তাদের এখনইতো সময় দেশের অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।
ছাত্রলীগ নেতা জমির উদ্দিন ভাবন জানান, সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে প্রাকৃতিক মহামারির বিপর্যয়ে দু:সময় অতিক্রম করছে, তাদের সেবায় এগিয়ে এসে আলা উদ্দিন আহামেদ চৌধুরী নাসিম ভাই, জালাল উদ্দিন আহামেদ চৌধুরী পাপ্পু, নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সাজেল ভাই মানব সেবার মহত্ত্ব দেখিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
মেয়র সাজেল চৌধুরী জানান, বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকেই নিজ অর্থায়নে মানুষের পাশে থাকা। ছাত্রলীগের কর্মীবাহীনি দিয়ে রাতের আধাঁরে খাদ্যসামগ্রী প্রতিরাতে মানুষের ঘরে দিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, অসহায় মানুষ আমাদের এ সমাজেরই অংশ। তারা আমাদের অতি আপনজন। সমাজের অক্ষম, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের কল্যাণে সব সময় কাজ করে যাবো।






