আবদুল মান্নানঃ-
ফেনীর পরশুরামে দুই দিনের টানা বর্ষণ ও অতি জোয়ারে পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের সাতকুচিয়ায় কহুয়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় চার(৪) গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
জানা গেছে নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে৷
বুধবার(৩০ জুন) রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত টানা বর্ষণে ফেনীর পরশুরাম উপজেলা বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সাতকুচিয়ায় ইউপি সদস্য মোঃ- জাহিদ হোসেনের বাড়ি সংলগ্ন স্থানে কহুয়া নদীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এসময় ইউপি সদস্য মোঃ-জাহিদ হোসেন এলাকাবাসীদের নিয়ে বাঁধ রক্ষা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।
ইউপি সদস্য জাহিদ হোসেন জানান স্থানীয় একজন বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে তাকে মুঠোফোনে কল করে জানান, সাতকুচিয়ায় তার বাড়ির পাশে কহুয়া নদীর বেরি বাঁধে গর্ত হয়ে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তাৎক্ষণিক তিনি এলাকাবাসীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাই মিলে বাঁধ রক্ষায় চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এসময় স্থানীয় একজন গুরুতর আহত হয়।পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বেরি বাঁধ ভেঙ্গে ইউনিয়নের সাতকুচিয়া, জয়পুরসহ ৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
প্লাবনের পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় প্রায় তিন’শ কৃষকের ফসলি মাঠ সহ রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি। পানি বন্ধি হয়ে আছে প্রায় ১০০টি পরিবারেরও বেশি মানুষ। ভেসে গেছে পুকরের মাছ।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন বলেন, টানা বৃষ্টিতে কহুয়া নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির অতিরিক্ত চাপের কারণে কহুয়া নদীর সাতকুচিয়া অংশে বাঁধের ভাঙন দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছেন পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দত্ত, পরশুরাম মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মুঃ খালেদ হোসেন,পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন বলেন, পানি একটু কমলেই মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দত্ত বলেন, বুধবার থেকে টানা বর্ষণে পানির অতিরিক্ত চাপের কারণে কহুয়া নদীর সাতকুচিয়া অংশে বাঁধের ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় ১০০টি পরিবার পানি বন্ধি রয়েছে। ইতিমধ্য পানি বন্ধি পরিবারগুলোকে ত্রাণ সহয়তা দেওয়ার জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ত্রাণ সহয়তা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।





