আবু ইউসুফ মিন্টু :ফেনীর পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চার নারী স্বাস্থ্যকর্মী (নার্স) করোনা জয় করে সোমবার (৩জুন) সকালে কাজে যোগ দিয়েছেন। সকাল থেকে ৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী রুটিন মোতাবেক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
করোনাকে জয় করে সুস্থ্য হয়ে উঠায় গত ২৪ মে রবিবার চার স্বাস্থ্যকর্মীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ফেনীর সিভিল সার্জন ডাক্তার মো:সাজ্জাদ হোসেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার আবদুল খালেক, আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) ডাক্তার ইন্দ্রোজিত ঘোষ সহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
করোনা জয় করা স্বাস্থ্যকর্মীরা হলেন অঞ্জলী রানী দাস (৫৬), সালমা সুলতানা চৌধুরী (৪৯), পপি রানী মন্ডল (২৬) ও পলি রানী দাস (২৫)। তাঁরা চারজনই ফেনীর পরশুরাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত রয়েছেন। করোনা আক্রান্তের পর থেকে আইসোলেশন শেষ করে ছুটিতে ছিলেন।
জানা যায়, পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুল খালেক বলেন, ওই চার স্বাস্থ্যকর্মী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁদের একজনের সামান্য জ্বর–কাশি দেখা দেয়। পরে ১১ মে তাঁরা চারজনসহ পরশুরাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেশ কয়েকজনের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ১৭ মে পাওয়া প্রতিবেদনে ওই চার নারী স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা পজিটিভ আসে।
এরপর থেকেই থেকে অঞ্জলী রানী দাস পরশুরাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে নিজ বাসায়, সালমা সুলতানা চৌধুরী ফুলগাজীতে নিজ বাড়িতে, পপি রানী মন্ডল ও পলি রানী দাস স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বরাদ্দ করা বাসায় হোম আইসোলেশনে ছিলেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন।
হোম আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় ১৭ ও ১৯ মে নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে দুদফা তাঁদের করোনা নমুনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে। এরপর ২০ মে ফেনীর সিভিল সার্জন তাঁদের সুস্থ ঘোষণা করে নিয়ম অনুযায়ী, ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দেন। বর্তমানে তাঁরা চারজনই নিজ নিজ কাজে যোগ দিয়ে সুস্থ্য ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে করোনাজয়ী অঞ্জলী রানী দাস বলেন, তিনি এখন পুরাপুরি সুস্থ্য আছেন, ২ জুন পর্যন্ত তিনি ছুটিতে ছিলেন , অদ্য ৩ জুন তিনি সকালে কাজে যোগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
তিনি আরো জানান তাঁরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত রোগীদের সেবা দিয়ে আসছেন। কীভাবে তাঁরা সংক্রমিত হয়েছিলেন বুঝতে পারেননি। স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত ওষুধ খেয়ে তিনি সুস্থ হয়েছেন।
করোনা থেকে মুক্তি পাওয়ায় বেশ আনন্দিত বলে জানান সালমা সুলতানা চৌধুরী, পপি রানী মন্ডল ও পলি রানী দাস তাঁরা দুজনই হাসপাতালের কাজে যোগ দিয়ে খুবই আনন্দিত ।
তাঁরা জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, সহকর্মী ও বন্ধুরা তাঁদের সবচেয়ে বেশি তত্ত্বাবধান করেছেন। ফলে আজ তাঁরা এখন সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দিতে পেরেছেন।
গতকাল ২ জুন তাঁদের হোম কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। মানসিকভাবেও তাঁরা সম্পুর্ন সুস্থ্য আছেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার আবদুল খালেক জানান, তারা ৪ জনের হোমকোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং সুস্থ্য হয়ে উঠায় কাজে যোগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।






