মোঃ জহিরুল ইসলাম রাজুঃ অতিবৃষ্টি ও ভারতীয় উজানের পানিতে মুহুরী নদীর তিনটি স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নদীর পানি বিপৎসীমার ১১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হযেছিলো৷
বৃহস্পতিবার সকালে ফুলগাজী উপজেলা সদরের উত্তর দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাশে,ও জয়পুর মমিনের বাড়ির পাশে, পরশুরামের সাতকুচিয়া মুহুরী নদী বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে জয়পুর, কিসমত ঘনিয়ামোডা, সাহাপাড়া, বৈরাগপুর, উত্তর দৌলতপুর, দক্ষিন দৌলতপুর, জগতপুর ও সাতকুচিয়ার কিছু অংশ প্লাবিত হয়। এতে আমন বীজতলা, সবজির ক্ষেত ডুবে যায়। পানিতে তলিয়ে যায় শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুর।

এদিকে ফুলগাজী বাজারে গার্ডওয়ালের উপর দিয়ে ও সেচপাম্পের ড্রেন দিয়ে পানি ফুলগাজী বাজারে প্রবেশ করে ফেনী-পরশুরাম সড়কের ২ ফুট উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। দোকানপাটে পানি প্রবেশ করে মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।
বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর বর্ষাকালে গার্ডওয়ালের উপর দিয়ে, জয়েন্টে পাকা থাকা ও বাজারে পূর্বপাশে সেচপাম্পে ড্রেন দিয়ে বাজারে পানি প্রবেশ করে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। বাজার পরিচালনা কমিটি, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা,ও জনপ্রতিনিধিরা এই সমস্যা সমাধানের কোন চেষ্ট বা সহযোগিতা করেনা।

উত্তর দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, মাটির পরিবর্তে বালি দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ বাঁধ নির্মাণ, শিডিউল মোতাবেক কাজ না করা কারণে প্রতিবছরই সামান্য বৃষ্টি হলে নদী রক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়।
এলাকার তরুণ মৎস্যচাষী জহিরুল ইসলাম জানান, প্রতিবছরই ভারতীয় উজানের পানিতে মুহুরী নদীতে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। তখন উপজেলা ও জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এসে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নের গল্প শোনান। তবে এসব উন্নয়ন কখনো বাস্তবে রূপান্তর হয় না। মেরামতে বরাদ্দ আসলেও নামমাত্র কাজ করে ঠিকাদারেরা তাদের অর্থ আদায় করে নেন। যার কারণে প্রতিবছর আমাদেরকে ঘরবাড়ি, ফসলী জমি ও মাছ চাষের পুকুরসহ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। আমরা এখন আর ভিক্ষাবৃত্তির ত্রান সহযোগিতা চাই না, আমরা এই বেড়িবাঁধের স্থায়ী সমাধান চাই।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন বলেন, টানা বৃষ্টিতে বিপৎসীমার ১১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিলো মুহুরী নদীর পানি। পানির অতিরিক্ত চাপের কারণে বাঁধের ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছে। পানি কমলেই মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছেন ফেনী জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন। জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকজনকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামত করার অনুরোধ করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, ফুলগাজী ও পরশুরাম এলাকায় নদীর বাঁধ মেরামতে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে ১ কোটি ৬৯ লাখ ২০ হাজার টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে ৩০ লাখ টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যায় দেখানো হয়। তবে তিন বছরে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও নামমাত্র কাজের কারণে সুফল পায়নি ফুলগাজী-পরশুরাম এলাকার মূহুরী ও কহুয়া বেড়িবাঁধের বাসিন্দারা।
তবে মুহুরী বাঁধ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক, ৭৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই চলছে। এর বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় মানুষ সুফল পাবে।

পরে শুক্রবার বিকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় চিড়া মুড়ি ও বিস্কুট বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম মজুমদার, উপজেলা নির্বাহি অফিসার, সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম সহ আরো অনেকে।






