নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফেনীতে কভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমনে দুই দিনে অন্তত ৫ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়স ৬০ বছরের উর্ধ্বে ছিলো। তারা সবাই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন। মৃতদের মাঝে দুইজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একজন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বিডিয়ার সদস্য রয়েছেন।
নিহতের স্বজন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, করোনাক্রান্ত হয়ে ফেনীর ছাগলনাইয়া পৌরসভা এলাকার হিছাছড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম মজুমদার (৭২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ১৪ এপ্রিল রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন। তিনি জনতা ব্যাংকের ডিজিএম থেকে কয়েক বছর আগে অবসর নেন।
একই দিন ফেনীর মেডিনোভা হাসপাতালে মারা যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান। তিনি দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের উত্তর মোমারিজপুর গ্রামের মিয়ন কাজী বাড়ির বাসিন্দা। এর আগে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি ৫ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হন। মৃতুকালে তার বয়স ছিলো ৭২ বছর।
এদিকে ৩ এপ্রিল ফুলগাজী উপজেলার জিএমহাট এলাকা থেকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন আবদুল কাইয়ুম (৬৫)। ৭ তারিখ তার শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন নিশ্চিত করা হয়। ১৪ এপ্রিল রাতে তিনি ফেনী জেনারেল হাসপাতালেই মারা যান।
বুধবার সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিম শাহ (৮০)। তিনি সোনাগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরখোয়াজ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সোনাগাজী সমিতি ঢাকার মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও বুধবার ঢাকায় চিকিৎসাধিন অবস্থায় সোনাগাজীর ফাতেমা খাতুন (৬৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়তে পারেন:ফেনীতে করোনায় দুই দিনে ফুলগাজীর ১ জনসহ ৫ জনের মৃত্যু!
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের করোনা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য মতে, ফেনীতে করোনা সনাক্ত হয়ে শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জেলায় ৬৭১ জন করোনা রোগীর মধ্যে ৬৬১ জন হোম আইশোলেশনে থেকে চিকিৎসা গ্রহন করছেন। বাকী ১০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। জেলায় ১৭ হাজার ৪২৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ৯১ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
জেলা ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন এসএস মাসুদ রানা জানান, গত বুধ ও বৃহস্পতিবার মারা যাওয়াদের মধ্যে সবার বয়স ষাটোর্ধ্ব। তারা নিয়মিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন। মারা যাওয়াদের মাঝে ফুলগাজী উপজেলার আবদুল কাইয়ুম ও আবদুল মান্নান ছাড়া বাকীদের মাঝে করোনার বিষয়টি ঢাকায় সনাক্ত হয়েছে। যার কারণে তাদেরকে ফেনীতে তালিকা ভূক্ত করা হয়নি।






