তনু সরকার : ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদ হাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ধর্মপুরে অবস্থিত সাংবাদিক এবিএম মুসা সেতুটি ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য মনোরম পর্যটন স্পট হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণীপেশার সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ও অনলাইনে বিনোদন স্পটটির সুখ্যাতির ভাইরাল হয়ে উঠেছে। এবিএম মুসা সেতুটিকে সংরক্ষণের মাধ্যমে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পূর্ণতা প্রদানের জন্য প্রশাসন বা ব্যক্তি উদ্যোগের প্রতি স্থানীয় জনগণ দাবি জানিয়েছেন। উপজেলার বৃহত্তম এই সেতুটি নির্মিত হওয়ার পর ইতোমধ্যে সেখানে পর্যটন প্রেমীদের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এটি বেশ সুন্দর নিরিবিলি স্থানও বটে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলা আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ধর্মপুর গ্রামের ‘হাজীর ভাগনা’ নামে খ্যাত এবিএম মুসা সেতুটি প্রায় ৪শত বছরের পুরানো। আশির দশকে লে. কর্ণেল (অব.) জাফর ইমাম বীরবিক্রম যোগাযোগ মন্ত্রী থাকাকালে স্টীল ও কাঠ দিয়ে ব্রীজটি নির্মাণ করেন। এই ভাগনা দিয়ে দীর্ঘদিন পানি প্রবাহিত হওয়ার ফলে ফসলী জমির উপর খালের সৃষ্টি হয়। পরে এই খালটিকে উপজেলার শ্রীচন্দ্রপুর অংশের মুহুরী নদীর সাথে মিলিত করা হয়।
মুহুরী নদীর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এই সেতুটি ভৌগলিক দিক থেকে ব্রিজটি অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। ব্রিজটির পূর্বাঞ্চলে রয়েছে আলহাজ্ব ডিগ্রী কলেজ, ধর্মপুর এডুকেশনাল স্টেট ও দেবপুর ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসা এবং পশ্চিমে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘাটঘর মাদ্রাসা। আমজাদহাট ইউনিয়নের ইসলামিয়া বাজার, বশিকপুর, শ্রীচন্দ্রপুর, শনিরহাটসহ ১৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের মুন্সীরহাট ইউনিয়ন, দরবারপুর ইউনিয়ন, জিএমহাট ইউনিয়ন, ফুলগাজী উপজেলা ও জেলা শহর ফেনীর সাথে যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে ব্যবহার করে।
ফুলগাজী উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক বিনোদ বিহারী বিশ্বাস ভানু জানান, এই ঐতিহাসিক হাজীর ভাগনা দিয়ে এলাকার জনগণ নৌকা ও ভেলা দিয়ে পারাপার হতো। ফেনী-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শিরিন আখতার এর ব্যাপক প্রচেষ্টা পর গত ১৫ মে ২০১৭ইং ৭ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই ব্রিজের স্থাপন করেন এবং আগামী ডিসেম্বর মাসে এই ব্রিজটি উদ্বোধন করবেন।
তিনি আরো জানান, এটি বর্তমান সরকারের একটি বড় অবদান। অত্র উপজেলায় ১৪০.২০ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এই ধরনের আর নেই। মরহুম সাংবাদিক এবিএম মুসার দাবির প্রেক্ষিতে বর্তমান সাংসদ ‘হাজীর ভাগনা এবিএম মুসা সেতু’ নামে নামকরণ করেন।
কয়েকজন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী জানান, এই সেতু নির্মাণ হওয়ার কারনে তাদের এখন স্কুল-কলেজ যেতে সময় ও ভাড়া দু’ই লাগব হয়। আগে তাদের সময় ব্যয় হতো দেড় থেকে দুই ঘন্টা। ভাড়াও পড়তো অনেক বেশি।
স্থানীয় এলাকাবাসী রফিক জানান, এই ব্রীজ না থাকার পূর্বে ২৩ কি. পথ পাড়ি দিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হতো। তখন সময় ও টাকা অপচয় বেশি হতো। এখন এই এলাকার ১৬টি গ্রামের মানুষ এই ব্রীজ দিয়ে যাতায়াত করে উপকৃত হচ্ছে। তারা বর্তমান সাংসদ শিরীন আখতারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
স্থানীয় এক কৃষক জানান, এই ব্রিজের দুপাশের মাঠ গুলোতে আমরা কখনো ফসল ফলাতে পারতাম না। সব সময় পানিতে ডুভে থাকতো। ফসল নিয়ে এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হতো। তখন একমাত্র মাধ্যম নৌকাই। এখন ব্রিজটির নির্মিত হওয়ার ফলে এলাকার জনগণের প্রাণের দাবি পূরণ হয়েছে।






