©® ফাইল ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি: ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট বাজারে স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রহিম উল্ল্যাহর নেতৃত্বে ক্রিকেট জুয়া খেলার অভিযোগ উঠেছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন আইপিলএল খেলার সময় হলে রহিম উল্ল্যাহর নেতৃত্বে তার নিজ ফার্নিচারের দোকানে ২০ থেকে ৩০ জন মিলে এই বেআইনি জুয়ার আসর বসায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, ইউপি সদস্যসহ অনেকে ক্রিকেট খেলার শুরু থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই ফার্নিচার দোকানে জুয়ার আসরে বসে থাকেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রত্যেক দিন খেলার সময় হলে অনেক যুবক জুয়া খেলার জন্য রহিম মেম্বারের দোকানে জড় হয়। তিনি কিশোর যুবকদের বিভিন্নভাবে জুয়াখেলায় উৎসাহ দিচ্ছে। ফলে একদিকে হচ্ছে সামাজিক অবক্ষয় অন্যদিকে জুয়ার টাকা জোগাড় করার জন্য এলাকায় চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে আইপিএল খেলাকে কেন্দ্র করে আমজাদহাটের পুরাতন বাজার নামক স্থানের বিভিন্ন দোকানে জুয়ার রমরমা ব্যবসা চলছে।
এলাকায় জুয়া খেলা নিয়ে সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আল মামুন নামে একজন বেশ কিছুদিন যাবৎ সামাজিক মাধ্যমে এসব জুয়া খেলার বিরুদ্ধে লেখালেখি করছেন।
তিনি জানান, আমি গত ১৮ এপ্রিল আমার ব্যক্তিগত ফেসবুকে আমজাদহাটের জুয়া খেলা নিয়ে একটি পোস্ট করি৷ আমার এই পোস্ট দেখে ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় ইউপি সদস্য রহিম পুরাতন বাজারে একটি দোকানের সামনে বসে আমাকে গালামন্দ করে এবং বলে ‘আমি আমার দোকানে জুয়া খেলাবো, কে কি করবে আমি দেখে নিবো’। একপর্যায়ে আমাকে মারার জন্য উদ্যত হয়ে হাতাহাতি লিপ্ত হয়।
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রহিম উল্ল্যাহ বলেন, এগুলো মিথ্যা কথা। আমার দোকানে টিভিও নাই ডিসও নাই। তবে মানুষ জুয়া খেলছে একজন জুয়া খেললে অন্যজন সেটাকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে বা বাধা দিতে পারে!?
এছাড়াও উপজেলার সীমান্তবর্তীঅঞ্চল হওয়ায় মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। হাত বাড়ালেই মিলছে নানান ধরনের ভারতীয় মাদক। মাদক দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে মদ, গাজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা ট্যাবলেট, ম্যাগডুয়েল নাম্বার ওয়ান, অফিসার চয়েজ ও বিয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক।
স্থানীয়রা জানান, মাদক বিক্রেতারা নিরাপদ স্থান হিসেবে জাফর ইমাম উচ্চ বিদ্যালয়ের আশপাশের দোকানপাট, ফেনাপুষ্পরনী সীমান্তের বিভিন্ন স্থান, উত্তর তারাকুচার নতুন পাড়ায় আনোয়ারের বাড়ী, উত্তর তারাকুচায় সাইফুলের বাড়ী, ফেনাপুষ্করনীতে রুবেলের বাড়ী, ফেনাপুষ্করনী রিষ্টমুখের হান্নান এবং ওহাবের বাড়ী, ধর্মপুর চৌরাস্তার মাথায় সাইফুলের বাড়ী, ইসলামীয়া বাজারে ফারুকের বাড়ী ও দক্ষিণ তারাকুচা গ্রামের হানিফ ও শেখার বাড়ী আস্তানা গড়েছেন।
আমজাদহাটের ইউপি চেয়ারম্যান মীর হোসেন মীরু জানান, আমার ইউনিয়নে জুয়ার মত এইসব বেআইনি কাজ যেই করুক না কেন তাকে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। কোন জুয়াড়ি বা মদদির পক্ষে আমি নাই। আমি কয়েকদিন আগেও বাজারে প্রকাশ্য অভিযান চালিয়ে সতর্ক করেছি।
ফুলগাজী থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ কুতুব উদ্দিন জানান, আমজাদহাটে জুয়া খেলা ও ফেসবুকের স্ট্যাটাস নিয়ে মারামারি বিষয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছে ইউপি সদস্য রহিম উল্ল্যাহ। মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এসময় তিনি সাংবাদিকদের এসব অভিযোগের সত্যতা জেনে সংবাদ প্রকাশের আহবান জানান।






