নিজস্ব প্রতিবেদক : নিলখি আব্দুল মজিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে পরিবার ও তার আত্মীয়-স্বজন জোর করে বাল্যবিবাহ দেয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেন এক ছাত্রী। ছাত্রী বিদ্যালয়ে তার সহপাঠীদের কে নিয়ে অভিযোগ করেন এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানান। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সোহেল সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নূরুল ইসলামকে এই বিষয় খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেন।
২৫ সেপ্টেম্বর বিকালে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ফুলগাজীর নিলখী গ্রামের আব্দুল করিম মিলনের বাড়িতে গিয়ে ঐ ছাত্রীর জন্ম নিবন্ধন এবং জন্মতারিখ সম্পর্কে জানতে চান পরিবারের কাছে। ওই সময় প্রতিবাদী ওই ছাত্রী এবং তার সহপাঠীদের কে নিয়ে তার বাড়িতে যান। চেয়ারম্যান যাওয়ার খবর পেয়ে ওই ছাত্রীর পিতা বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছাত্রীর জন্ম সনদ দেখাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বিয়ে হচ্ছে না বলেও মিথ্যে কথা বলেন।
পরে চেয়ারম্যান ওই বাড়ির অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন ওই মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ সবকিছুই ঠিক হয়েছে। চেয়ারম্যান নরুল ইসলাম ছাত্রীর মাতা পিতা এবং পরিবারের সদস্যদেরকে বাল্যবিবাহ দেয়ার ব্যাপারে সাবধান করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এবং ছেলে পক্ষের পরিবারকে জানিয়েছেন তারা যেন বাল্য বিবাহের ব্যাপারে সচেতন থাকেন।
জানতে চাইলেই সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, আমি ওই বাড়িতে গিয়ে ওই পরিবারকে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে সচেতন করে এসেছি। তারা যেন গোপনে বাল্যবিবাহ দিতে না পারে সেজন্য পরিবারের সদস্য অন্যান্যদেরকে বলে এসেছি। তার পরেও যদি তারা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে দুই পরিবারের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম কয়েকদিন আগে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক টাইমলাইনে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে সচেতনতা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উদ্বুদ্ধকরণ চেষ্টায় পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন।






