বাক প্রতিবন্ধী হয়েও জীবন সংগ্রামে থেমে নেই করিম !! কাজের মাঝেই তার পরম আনন্দ!! সরকারের সহায়তা পেলে বোবাদের কল্যানে কাজ করার ইচ্ছা
এম নিজাম উদ্দীন মজুমদার সজিবঃ বাক প্রতিবন্ধী করিম(৪২)।ভাগ্যের নির্মমপরিহাসে বাক প্রতিবন্ধী হিসেবেই তার জম্ম।সে মনের ভাবটুকু দশজনের মত প্রকাশ করতে পারেনা।এরপরও নিজেকে খাট করে দেখেনা। পাঁচ ভাই বোনের সংসারে করিম সবার বড়।তিন বোনের মাঝে দুই বোন তারমত বাক প্রতিবন্ধী। করিম স্পষ্টভাবে কথা বলতে না পারলেও ইশারায় ইঙ্গিতে কথা বলে।
সে বোবা হলেও তার কোন দুঃখ নেই বলতে থাকে সবই আল্লাহর ইচ্ছা।করিমের বাবা এনামুল হক সরকারি চাকুরী করত বর্তমানে অবসরে আছে আর মা গৃহিনী । ছোট ভাই চাকুরী করলেও সংসারের হাল ধরতে সেও থেমে নেই। তার ছোট সংসারে দুইটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে ছাগলনাইয়া মৌলভী সামছুল করিম কলেজে এইসএসসি দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আর ছোট ছেলে হেফজ বিভাগে পড়াশুনা করছে। বর্তমানে সে রংয়ের কাজ করে নিজেকে একজন কর্মমুখী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
করিম নিজ এলাকায় ভাল একজন রং মিস্ত্রী হিসেবে পরিচিত। এলাকায় তার রয়েছে ব্যাপক সুনাম। সবার কাছে খুবই আদরের করিম। কেউ নতুন ঘর বানানোর পর রংয়ের জন্য করিমকেই খোঁজ করতে থাকে কারন তার কাজের মান খুবই ভাল। তার কাজের মান ভাল হওয়ায় এলাকা পেরিয়ে দূরদূরান্তেও তার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল করিমকে কেউ কাজের দায়িত্ব দিলে সে তার সহযোগী হিসেবে যাদের নিয়ে আসে তাদের বেশিরভাগই বাকপ্রতিবন্ধী(বোবা)।
সে জানায় ২০০১ সাল থেকে রং মিস্ত্রীর কাজ করে আসছে। এখন আরো কিছু বাকপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে একটি কমিটি করেছে যে কমিটির কাজ হবে তারমত বোবাদের কল্যানে কাজ করা।সে ইশারায় বলতে থাকে সরকারীভাবে যদি তাকে সহযোগীতা করা হয় তাহলে সে নিজে সাবলম্বী হয়ে অন্য বোবাদের কল্যানে কাজ করবে দেশের অর্থনীতির জন্য কাজ করবে।সে যখন তার মনের কথাটি বুঝাতে অক্ষম হয় তখন মাটিতে বা কাগজে সুন্দর হাতে লিখে বুঝানোর চেষ্টা করে।এলাকাবাসিরও দাবি করিমকে যদি সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগীতা করারা যায় তাহলে সে কারো ভোজা না হয়ে আত্ননির্ভরশীল হবে বোবাদের কল্যানে কাজ করতে পারবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
করিমের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলে বোবারা আর কারো বিরক্তের কারন না হয়ে হাসির পাত্রে পরিনত হবে।দেশ হবে একটি সুখী,সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী।






