বিশেষ প্রতিনিধি : পতন হলে বউ ছাড়া কেউ পাশে থাকে না বলে মন্তব্য করেছিলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, জমিনে উত্থান দেখেছি পতনও দেখেছি। পতন হইলে কেউ নাই, বউ ছাড়া কেউ নাই।
সম্রাট গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে এবং তৎপরবর্তী বিভিন্ন কার্যকলাপে নেতাকর্মীদের অসহযোগিতা কথা বর্ণনা করে সম্রাট শারমিন চৌধুরী বলেন, ওমর ফারুক চৌধুরী যথার্থই বলেছেন ‘পতন হলেই বউ ছাড়া কেউ পাশে থাকে না’ এখন আমি ছাড়া সম্রাটের পাশে কেউ নেই। সহযোগিতার জন্য আমিও কাউকে খুঁজে পাই না।
ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে ক্যাসিনোর সাথে সম্পৃক্তার কোন তথ্যই মিলেনি।
অফিসে ক্যাঙ্গারুর চামড়া রাখার দায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। পরদিনই তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি পৃথক মামলা করা হয়। সর্বশেষ ১৫ অক্টোবর তাকে আদালতে তুলে দুটি আলাদা মামলায় ২০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। পরে আদালত ১০ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করে।
এসব বিষয় ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন তার স্ত্রী শারমিন সম্রাট চৌধুরী। প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানান, এমন বিপদের সময় অনেক নেতা-কর্মী আমার পাশে নেই, আবার অনেককে খুঁজেও পাচ্ছিনা। আগে যারা সারাক্ষণ ভাই ভাই করে জীবন দিয়ে ফেলত, তারা এখন ভয়ে লুকিয়ে বেড়াচ্ছে কেউ আবার নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত। অনেকেই আমাকে অসহযোগিতা করছেন।

সম্রাটের হাতে হাতকড়া পড়িয়ে গ্রেফতার করার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে হত্যা, খুন, রাহাজানি ও ধর্ষণ মামলার বড় বড় সন্ত্রাসী এবং আসামীদেরকে সসম্মানে প্রশাসনিক প্রোটোকল দিয়ে গ্রেফতার করে হাজতে অথবা আদালতে উপস্থাপন করেন। অথচ এমন একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে যার বিরুদ্ধে তখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। সম্রাট প্রথম থেকেই হত্যা খুন চাঁদাবাজি মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের কে ঘৃণা করতেন অথচ তাকে হাতকড়া পরিয়ে জঙ্গী সদস্যের মতো গ্রেফতার করা হয়েছে। এটা সম্রাটের সম্মানহানি এবং ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।
সম্রাট এর অফিস তল্লাশি করে অস্ত্র ও মাদক পাওয়ার বিষয়ে স্ত্রী শারমিন চৌধুরী বলেন, সম্রাটের অফিসে এমন কিছুই পাওয়া যায়নি। অভিযান চালানোর সময় কোনো সাংবাদিককে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অথবা ষড়যন্ত্রকারীরা আগে থেকেই এগুলো সেখানে রেখেছিল। এবং পরে সেগুলো দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এটা তাদের ষড়যন্ত্রের অংশ।
২০ দিনের রিমান্ড চাওয়া এবং ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার বিষয়ে স্ত্রী শারমিন চৌধুরী জানান, এটা অনেকটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। সম্রাট প্রধানমন্ত্রীর দুর্দিনের কর্মী, দলের দুর্দিনে তার জীবন বাজি রেখে কাজ করেছে। মায়ের স্বর্ণ বিক্রি করে দলের জন্য ব্যয় করেছে। অনেকে বলছে তিনি ক্যাসিনোর সাথে সম্পৃক্ত, যদি থেকে থাকে তাহলে সেই টাকা দলের জন্যই ব্যয় করেছে তার ব্যক্তিগত অর্থ-সম্পত্তি টাকার প্রতি কোন লোভ নাই।

তিনি আরো বলেন, সম্রাটের শরীরের অবস্থা এখন ভালো না। গত ১৩ অক্টোবর আমি তার সাথে দেখা করেছিলাম। তিনি বলেছেন তার প্রচন্ড বুকে ব্যথা হচ্ছে এবং শরীর খুব দুর্বল। তেমন কিছুই মনে রাখতে পারছেন না।
উনি একজন ওপেন হার্ট সার্জারি রোগী। অসুস্থতার জন্য তিনি সচরাচর জোরে হাঁটতে পারতেন না, দৌড়াতে পারতেন না। সামান্য জিনিসও উপরে তুলতে পারতেন না এবং এসব বিষয়গুলো ডাক্তারও নিষেধ করেছিলেন তাকে। বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন পরিস্থিতিতে তার শরীরের আরো বেশি অবনতি হচ্ছে। যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে কারণ তার শরীরে এমনিতেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ করে স্ত্রী শারমিন সম্রাট চৌধুরী বলেন, আপনারা তাকেই কাছে থেকে দেখছেন এবং তার শরীরের অবস্থা অনুধাবন করতে পারছেন দয়া করে তার প্রতি একটু সহায় হবেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করে বলেন, সম্রাট আপনার দুর্দিনের জীবন বাজি রাখা পরীক্ষিত কর্মী। আপনার কাছে তার সম্পর্কে হয়তো কেউ ভুল তথ্য দিয়েছেন এবং আঞ্জুমান মফিদুলে চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি একটি ষড়যন্ত্র। বিষয়গুলো আপনি অধিক তদন্ত করে সম্রাট কে ক্ষমা করে দিবেন এবং অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিবেন। একজন মা হিসেবে সম্রাটের মা আপনার কাছে তার ছেলের মুক্তি এবং সুচিকিৎসা ভিক্ষা চেয়েছে সে বিষয়টা আপনি একটু বিবেচনা করে দেখবেন।






