নিজস্ব প্রতিবেদক : ফেনীর ফুলগাজীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পবিত্র রমজান এবং করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে ফুলগাজীতে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। দাম বেড়েছে পিয়াজ, আদা, রসুন ও চালসহ বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও কাঁচা শাকসবজির। এমন পরিস্থিতিতে সারা দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যকর অভিযান দেখতে চায় সাধারণ মানুষ।
তারা বলছে, দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো ফুলগাজীতেও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য দ্রব্য ও কাঁচা বাজারের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাজার মনিটরিং করা প্রয়োজন।
ফুলগাজী বাজার ঘুরে দেখা যায়, এই ভরা মৌসুমে আবারও বেড়েছে পিয়াজ ও আদার দাম। হু হু করে বাড়ছে রসুনের দামও। তবে সবজি, ডিম ও মুরগির দাম রয়েছে স্থিতিশীল। ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পিয়াজ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। ৬০ টাকার আদা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা কেজি দরে। ৮০ টাকা দামের দেশি রসুন ২৫০-২৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৪৫ টাকার মুড়ি ৭০ টাকা, ১৫০ টাকার হলুদ ২৬০ টাকা, ৭৫ টাকার কোয়ালিটি তৈল ১০৫ টাকা, ৩৪ টাকার চাউল ৪৫-৫৫ টাকা, এলাচি প্রতি কেজি ৪২০০ টাকা। জিরা ৪০০-৫০০ টাকা, ৬০ টাকার ডাল প্রতি কেজি ৮৫-১০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। সরবরাহ রয়েছে সব ধরনের সবজির। দামও গত সপ্তাহের মতো স্থিতিশীল। এ ছাড়া রমজানের আগে আরও একধাপ দাম বাড়ল ছোলার। প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা দরে।
যদিও দাম নিয়ন্ত্রণে ফেনীতে পাইকারি বাজার ও আড়তে অভিযান চলছে মোবাইল টিমের। ফুলগাজীতেও অভিযান বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকির অনুরোধ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বিক্রেতাদের অভিযোগ, করোনা ভাইরাসের কারনে পরিবহন সংকট হওয়ায় চাহিদা মোতাবেক জিনিসপত্র জোগান দেয়া যাচ্ছে না। এছাড়া পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি ও লেবার খরচ বেশি হওয়ায় বেশি দামে বিক্রয় করতে হচ্ছে।
বাজার করতে আসা ক্রেতা সামছুল হক মিলন বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে নিত্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম ৩-৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অস্বাভাবিকভাবে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারন মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগে সারা দেশের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সম্পাদনা:এমএসআই মজুঃ






