মোহাম্মদ এনায়েত উল্যাহ সোহেল : মীর আবদুল হান্নান (১৯৫১-২০১৯)। একটি সংগ্রামী ব্যক্তির নাম। যার কাছ থেকে ফেনী জেলার ছাত্র/ছাত্রীরা খুবই সহজে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস গুলো শুনতে পারতো। সবাইকে কাঁদিয়ে ২২ মে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না..রাজিউন)।
উনার রেখে যাওয়া বর্ণাঢ্য জীবনী থেকে জানা যায়, তিনি ১৯৫১ সালের ১২ই আগস্ট ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার পূর্ব ছাগলনাইয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে ফেনী সরকারী কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন। ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযোদ্ধে সরাসরি অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত তিনি ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। ফেনী জেলা আ’লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দলের নেতৃত্ব দেন ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৮ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ফেনী জেলা শ্রমীকলীগের সভাপতির নির্বাচিত হয়ে সে দায়িত্ব অত্যন্ত আস্থা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেন।
এরপর ছাগলনাইয়া থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন । জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আহবায়ক কমিটির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৮ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। তিনি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমন্ডার নির্বাচিত হয়ে ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে আবারো জেলা কমান্ডার হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও ফেনী জেলা আ’লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে ২০০৮ থেকে বর্তমান পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন। দীর্ঘ এ রাজনৈতিক জীবনে হাজারো অর্জন রয়েছে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার। তার সবচেয়ে উল্লেখ্য যোগ্য অর্জন হলো ২০১৬ সালে মুক্তিযোদ্ধা সমবায়ের সেরা সংগঠক হিসেবে তিনি নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে স্বর্ণ পদক গ্রহণ করেন।
প্রতি বছর মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ফেনী জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস ও জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী তুলে ধরে আসছেন। ফেনী জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারী চাকুরী পাওয়ার ক্ষেত্রে মীর আবদুল হান্নানের অবদান চিরস্মরণীয় বলে জানান ফেনীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা। এ প্রবীণ আ’লীগ নেতার মুত্যুতে ফেনী জেলা আওয়ামী পরিবার ও বঙ্গবন্ধু ব্লাড ব্যাংক ছাগলনাইয়া’র পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয় এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।





