ঘুষ বাণিজ্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে সড়ক পরিবহন করপোরেশনের দক্ষ ড্রাইভার তৈরির বিভিন্ন প্রকল্পে। ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নিতে আসা প্রশিক্ষণার্থীদের ঘুষের বিনিময়ে পাস করিয়ে দিচ্ছে করপোরেশনের একদল প্রশিক্ষক। সড়ক আইন না মেনে, লোক দেখানো পরীক্ষায় পাস করা এসব চালক মহাসড়কে এক একজন ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে, আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞদের।
প্রচলিত আইন কিংবা বিআরটিএ রেজুলেশন অনুযায়ী কম করে ৩০ মিনিট সড়কে যান চালনার পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও এসব শিক্ষার্থী সড়কে গাড়ি চালানোর চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে গড়ে ১ মিনিটের পরীক্ষায়!
ব্যাকগিয়ারে কমবেশি ৩ মিটার চালানোর পরীক্ষা দিয়ে এই চালকরা কী করে মূল সড়কে শতশত মাইল পাড়ি দেবেন তা অবশ্যই বিবেচনার বিষয়। সময় সংবাদ জানতে চায়, সত্যিকারের কতটা শিখেছে সরকারি প্রকল্পের অধীনে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নেওয়া এসব শিক্ষার্থী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী জানান, ১০০ ভাগের মধ্যে ১০ ভাগও শিখতে পারিনি। সব শিক্ষার্থী ঠিকমত শিখতেও পারে না।
আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, চার মাসের প্রায় এক-দেড় মাস এমনিতেই চলে গেছে। আর বাকি ২০-২৫ দিন কিছুটা শিখেছি। আর ২৫০০ টাকা করে নিয়েছে, বলেছে দিলে নাকি পাস করা যাবে।’
ঘুষের বিনিময়ে লাইসেন্স পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পরীক্ষা নিতে আসা বিআরটিএর প্রতিনিধিসহ বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা।
বিআরটিএ-র লাইসেন্সিং বোর্ডের এক সদস্য বলেন, আমরা এখানে যে পরীক্ষা নিচ্ছি তাতে অসঙ্গতি থাকার কোন প্রশ্নই আসে না।
সাধারণ প্রশিক্ষণার্থীর ছদ্মবেশে পরীক্ষা শুরুর আগেই সাতরাস্তার বিআরটিসি ট্রেনিং সেন্টারে হাজির হয় প্রতিনিধি। প্রতি প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেবার জন্য কমপক্ষে ৩ জন প্রশিক্ষককে আড়াই হাজার করে টাকা নিতে দেখা যায়।
এ সেন্টারে ২০০ জন শিক্ষানবিশকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে সরকারি এমন ৪ জন চালক। হিসেবে করে দেখা যায় পরীক্ষা শুরুর মাত্র আধা ঘণ্টা আগেই বিনামূল্যে ড্রাইভিং শিখতে আসা এসব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় অন্তত ৫ লাখ টাকা। তবে বরাবরের মতই ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন এসব সরকারি প্রশিক্ষক।
সরকারি প্রশিক্ষক বলেন, তাদের কাছ থেকে কোন টাকা নেয়া হচ্ছে না। তাদের টাকাটাই সরকার দিচ্ছে। লাইসেন্সের পুরো টাকাটাই সরকার নিচ্ছে।
আরো একজন টাকা নেয়া প্রশিক্ষক বলেন, তাদের পুরো ফ্রিতে ট্রেনিং হচ্ছে। এখানে টাকা নেয়া হয় না।
সরকারি প্রকল্পের অধীনে ড্রাইভার তৈরির এমন প্রক্রিয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুয়েটের অধ্যাপক শাসমুল হক বলেন, ‘এই যে প্রক্রিয়াটা এটা কর্তৃপক্ষ দেখে না দেখার ভান করছে। কারা এই টাকা লেনদেন করছে, এটা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। একটা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমেই জানা যায়। যদি এটা জানানো না হয়, তবে বুঝতে হবে এই টাকা অনেক দূর যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিআরটিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও ক্যামেরার সামনে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। কিন্তু মৌখিকভাবে ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।






