এম নিজাম উদ্দীন মজুমদার সজিব : ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নে ভূমিহীন গরীব মানুষদের মাথাগোঁজার জায়গাটি একের পর এক দখল করে নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। তারা সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে ঘর নির্মান করছে।
জানা যায় ভূমিহীন দরিদ্র ছিন্নমুল মানুষগুলির জন্য ১৯৯১ সালের দিকে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জয়চাঁদপুর ও জয়পুর গ্রামে ৪ শত ৮০ ডিসিমেল জায়গার উপর ৪০ টি পরিবারের জন্য সরকার কুয়েতপল্লী নামে জায়গাটি বরাদ্দ করে দেয়।সেই থেকে এই ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষগুলো বসবাস করে আসছে।
পল্লীর বাসিন্দা মোঃ সাঈদুল ইসলাম,আবুল কাশেম,কানন ড্রাইবার, মোঃ ফারুক,নুর আলম,শফিকুর রহমান ভান্ডারী ও স্থানীয় মাঈন উদ্দীন মামুনসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো অনেকে তাদের সমস্যার কথাগুলো গনমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
তারা জানান তাদের ব্যবহারের পুকুরটি ভরাট করে স্থানীয় প্রভাবশালী কামাল উদ্দীন প্রকাশ কুয়েতি কামাল তার ইট ভাটার ( ব্রীক ফিল্ড) জন্য অফিস এবং একটি ইবাদত খানা নির্মান করছে।পল্লীর বসবাসকারীদের দাবি এটি তাদের গোসলসহ দৈনন্দিন কাজের জন্য একমাত্র পুকুরটি অবৈধভাবে ভরাট করে অফিস এবং ইবাদতখানা নির্মান করছে।এছারাও এই পুকুরের আয় দিয়ে তাদের মসজিদের খরচ চালানো হয়।এই পুকুরটি ভরাটের ফলে একদিকে গোসলও ধোয়া মোছার কাজ বন্ধ হয়ে গেছে অপরদিকে মসজিদের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে।ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না।
অভিযুক্ত কামাল উদ্দীনকে কুয়েতপল্লীর সরকারি জায়গায় ইবাদত খানাও অফিস নির্মানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,এটি কুয়েতপল্লীর জায়গা নয় এটি সড়কও জনপদ বিভাগের জায়গা এখানে একপাশে ইটভাটার জন্য অফিস করা হবে বাকিটাতে ইট ভাটার শ্রমিকদের জন্য ইবাদতখানা তৈরী করা হবে।
অপরদিকে স্থানীয় আরেক ভূমিদস্যু ডালিম কুয়েতপল্লীর জন্য কবরস্থান, মক্তব ও মসজিদের জায়গায় অবৈধভাবে গরুর ফার্মের জন্য পাঁকা ঘর নির্মান করছে। এব্যপারে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত ডালিমকে পাওয়া যায়নি।
কুয়েতপল্লীর ক্ষতিগ্রস্থ্য ব্যক্তিরা জানান ইতিপূর্বে পুকুরসহ জায়গা নিয়ে বহুবার প্রতিবাদ করেছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও ভূমি অফিসে সবাই উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি প্রতিবাদ করেছি। প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের উপর ভূমিদস্যুদের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায়। সেজন্য এখন ভয়ে আর প্রতিবাদ করার সাহস পাইনা। আমরা গরীব নিরীহ মানুষ আমরা প্রভাবশালীদের সাথে টিকে উঠতে পারবনা তাই সবকিছু নিরবে সহ্য করছি। এছারাও কুয়েতপল্লীর বাসিন্দাদের জন্য চলাচলের একমাত্র রাস্তাটিও ইটভাটার ভারী গাড়ী চলাচলের কারনে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরেছে।তারা যে ঘরে বসবাস করে মাথাগোঁজার সেই ঘরটিও নড়বরে অবস্থা।ভূমিকম্প বা যেকোন প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে যেকোন মুহুর্তে ধসে পরে প্রানহানি ঘটার যথেষ্ঠ সম্ভাবনা রয়েছে। সেজন্য তারা চরম ঝুঁকি নিয়ে পরিবারপরিজন নিয়ে বসবাস করছে।
তারা আরো বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি অফিসে সমস্যার কথা জানালেও কোন সহযোগীতা পাইনি। সরকারের কাছে পল্লীবাসির দাবি তাদের সমস্যাগুলোর যেন ধ্রুত সমাধান করে তাদেরকে আধুনিক মানসম্মত বাসযোগ্য পরিবেশ করে দেয়া হয়।
এব্যাপারে কমিশনার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী বলেন,কুয়েতপল্লীটি সরকারী খাস জায়গার উপর চলছে এখানে যদি এই ধরনের কাজ চলে অবশ্যই আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করব এবং ভূমি কর্মকর্তাকে এখনই নির্দেশ দিচ্ছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য আগামী দুই এক দিনের মধ্যেই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।






