মোঃশাহ আলমঃ- ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় যত্রতত্র সরকারি অনুমোদনহীন শত শত পল্ট্রি ফার্ম গড়ে উঠেছে। এতে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এছাড়াও এসব পল্ট্রি ফার্মে বিষ্ঠার দুর্গন্ধ আশপাশের পরিবেশের সাথে মিশে স্থানীয়রা বিভিন্ন প্রকারের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
উপজেলায় বর্তমানে রয়েছে প্রায় ৫০০ শ’র অধিক পোল্ট্রি ফার্ম দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এর মাঝে সরকারী ভাবে ১শ ফার্মের অনুমতি থাকলেও বাকী ৪ শতাধিক ফার্মের পরিবেশ ছাড়পত্র নেই।,যত্রতত্র গড়ে উঠছে এই শিল্পটি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি বাড়ি একটি খামারের আওতায় ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক শিক্ষিত,বেকার যুবকদেরকে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সরকার ঋণ দিয়ে সহায়তা করলেও তবে আইনে উল্লেখ রয়েছে এই শিল্পটি যেখানে সেখানে গড়ে তোলা যাবেনা, কিন্তু কে মানছে কার কথা। আমাদের প্রতিনিধি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা,ঘুরে সরেজমিনে দেখতে পায় উপজেলার পুরো চিত্র।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, ইতিমধ্যে আমরা সকল খামারীদেরকে ডেকে তাদের পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন করার নির্দেশ দিয়েছি,অন্যথায় পরিবেশ ছাড়পত্র বিহীন ফার্মগুলো বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছি।
তিনি আরো জানান,সরকার প্রতিনিয়ত শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পোল্ট্রি ফার্ম,গবাদি পশু খামার ও মৎস খামার করে স্বাবলম্বী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় জনসাধারণ জানায়, পোল্টি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সব খামারের মুরগির বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসাবে বিক্রি করে খামারের মালিকরা। সময়মতো বিক্রি না হলে খামারেই থেকে যায় এসব বিষ্ঠা। না হয় খামারের পাশেই উন্মুক্ত স্থানে অথবা খালে বস্তায় ভরে লোকালয়ে ফেলে রাখা হয়।
বিভিন্ন নামে বেনামের খামারের পাশে বিষ্ঠার ভাগার থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ট জনবসতিপূর্ণ এলাকাবাসী। গ্রামের মানুষ পোলট্রি বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে আছে। খামারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
এ বিষয়ে কথা বলতে বিভিন্ন পোলট্রি মালিকদের কল দিলেও তারা কেউই ফোন রিসিভ করেননি।
ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া তাহের জানান, জনবসতি এলাকায় পোলট্রি খামার করার কোন নিয়ম নেই, কোথায় কোথায় এমন পোলট্রি খামার আছে, আমাকে তথ্য দিন অথবা এলাকাবাসীকে বলেন, আমার বরাবরে দরখাস্ত দিলে আমি সাথে সাথে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল জানান, জনবসতি এলাকায় ও সরকারের খাস জায়গাতে পোলট্রি খামার কোনভাবে মেনে নেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে যারা এমন কাজটি করেছেন, আপনারা খামার গুলো স্থানান্তর করে নিন, অন্যথায় আমরা ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আপনাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।


