‘কৃত্রিম খাদ্য পরিহার করে প্রাকৃতিক নিয়মেই মোটা তাজা করা হচ্ছে’
এম নিজাম উদ্দিন মজুমদার সজিব : আসছে মুসলমানদের দ্বিতীয় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আয্হা বা কুরবানির ঈদ। কুরবানীর জন্য গরু মোটা তাজা করণে ব্যস্ত ফেনীর সীমান্তবর্তী অঞ্চল পরশুরামের খামারীরা। কৃত্রিম খাদ্যের মাধ্যমে পশু মোটা তাজা করার পরিবর্তে দেশীয় শুকনো ঘাস, কাঁচা ঘাস, বুশি ও এশিয়া খাদ্য খাবারের মাধ্যমে পশুকে মোট তাজাকরণ করা হচ্ছে।
পরশুরাম পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল জানান, পবিত্র কুরবানীর জন্য তিনি তার খামারে পশুর খাদ্য হিসেবে কোন ধরনের রাসায়নিক বা কৃত্রিম কোন খাবার পশুদের খাওয়াচ্ছেন না। তিনি শুকনো ঘাস, বুশি, কাঁচা ঘাস ও এশিয়া খাদ্য খাওয়ানোর মাধ্যমে গরু মোটা তাজা করছেন। রয়েছে ডাক্তারের নিয়মিত পরিচর্যা। তার খামারে ৩শ এর অধিক গরু ও গয়াল পালন করেন। তবে কুরবানীর ঈদের জন্য ইতিমধ্যে কিছু কিছু গরু ও গয়াল বিক্রি শুরু করেছেন।

তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরশুরাম সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় কুরবানীর পূর্ব মুহুর্তে পাশ্ববর্তী ভারতের সীমান্তগুলো খুলে দেয়া হয়। এসময় সীমান্ত পথে অবৈধ্যভাবে গরু আনা হয়। এতে করে একদিকে দেশীয় স্বাস্থ্যসম্মত গরুর চাহিদা কমে যায়। অপরদিকে ভারত থেকে রোগাক্রান্ত পশু বাংলাদেশে আনার ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সেজন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান, যেন ভারত থেকে কোন গরু অবৈধভাবে বাংলাদেশে না আসে। খামারীরা জানান, চাহিদা মেটানোর মত বর্তমানে সেখানে পর্যাপ্ত গরু রয়েছে।
ভারত থেকে কোন গরু আমদানী করতে হবেনা এবং এব্যাপারে প্রশাসনকে জোরালো প্রদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ইসমাঈল হোসেন জানান, কোন খামারে কৃত্রিমভাবে যেন, পশুকে কোন খাবার না খাওয়ানো হয়। সে বিষয়ে খামারিদের কঠোরভাবে বলা হয়েছে। এবং উপজেলা প্রার্ণী সম্পদ অফিস নিয়মিত মনিটরিং করছে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি। তবে শুকনো খড়, কাঁচা ঘাস, বুশি ও খৈলের পাশাপাশি ইউরিয়া মোলাসেস ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কারণ ইউরিয়া মোলাসেস গবাদী পশু ও মানুষের স্বাস্থ্যহানীর কোন সম্ভাবনা নেই। এটি বৈজ্ঞানীকভাবে প্রমাণিত একটি প্রযুক্তি। যা প্রার্ণী সম্পদ গবেষনা ইনিস্টিটিউট থেকে পরীক্ষিত। এছাড়া মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝূঁকি এমন কোন রাসায়নিক পদার্থ, কৃত্রিম খাদ্য ও স্টোরেড জাতীয় কোন ধরনের হরমুন কোন খামারী ব্যবহার করে থাকলে বা নজরে পড়লে তাহলে ঐ খামারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
–
সস্পাদনা : জে আই রাজু।






