নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাছে পরিচিতি করতে রোল মডেল হিসেবে ভিষণ ২০২০ নিয়ে কাজ করছে সরকার। সে ধারাবাহিকতায় সারাদেশের গ্রামেগঞ্জে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। তবে কিছু কিছু জায়গা এখনো অবহেলিতই রয়ে গেছে৷ হয়তো শত চেষ্টায়ও সেই সব স্থানেই উন্নয়নের বিন্দুমাত্রও পৌঁছায়নি। তেমনই একটি সড়কের নাম ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা সদরের ‘বনিকপাড়া-উত্তর বরইয়া সড়ক’।
গত ১২-১৩ বছরে শত চেষ্টার পরেও মাত্র ৩ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার বা মেরামত করাতে পারেনি স্থানীয়রা। বিভিন্ন নির্বাচনী ইশতেহারে জনপ্রতিনিধিরা সড়ক নতুন করে দেওয়া অথবা সংস্কারের আশ্বাস দিলেও পরে কখনোই এসব নিয়ে মাথা ঘামাননি নির্বাচিতরা। বনিকপাড়া-উত্তর বরইয়া এই ছোট্ট সড়কের সাথে সংযুক্ত উত্তর দৌলতপুর, দঃ দৌলতপুর ও উত্তর বরইয়া গ্রামের প্রায় ১২ হাজার মানুষ। এ সড়কে রয়েছে ১০-১২টি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির, রয়েছে উত্তর বরইয়া সরকারি বিদ্যালয়। এছাড়াও এ তিনটি গ্রামের প্রধান সড়ক বনিকপাড়া-উত্তর বরইয়া এ সড়কের সাথে সংযুক্ত ফুলগাজী বাজার, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এ সড়কে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় আট দশ হাজার মানুষের চলাচল।
হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা বণিকপাড়ায় প্রতিবছর সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান দুর্গা পুজোয় হাজার মানুষের সমাগম হয়। কিন্তু এই বেহাল অবস্থা এবং বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার কারণে নানান সমস্যায় পড়তে হয় তাদেরকে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্যর কাছে বারবার এই বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাননি তারা।
ফুলগাজী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ’র সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কান্তি দত্ত জানান, এই জনপদ দীর্ঘদিন যাবত অবহেলিত। হিন্দুদের বসবাস বলে হয়তো কারো চোখেই পড়ছে না। গত ১০-১২ বছরে কোনো সংস্কার বা মেরামত হয়নি। পূজার মিটিং এ জেলা প্রশাসককে জানানো হলে গত বছর সামান্য মেরামতের ব্যবস্থা হয়েছিল। দীর্ঘ এক যুগ কোন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল অবস্থা হয়ে আছে। আমরা বেশ কয়েকবার চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্যকে অনুরোধ করেছি, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধানের আশ্বাস পাইনি। এই বেহাল অবস্থার কারণে এখন বণিক পাড়ায় রিকশা-সিএনজিসহ কোন ধরনের যানবাহন প্রবেশ করে না। তাই খুব জরুরী ভিত্তিতে এটা সংস্কার প্রয়োজন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জানান, গতবছর দুর্গাপূজার আগে এ সড়ক মেরামত করা হয়েছে, তবে স্থায়ী ভাবে কাজ করতে সময় লাগবে। উপজেলার মোট মোট ১৪ টা রাস্তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, ৮টা এসেছে বাকিগুলা আসে নাই। পনের-বিশ বছর কাজ হয় নাই এমন রাস্তাও আছে এটাতো ১২-১৩ বছর! আগামী অর্থবছরে এটার কাজ হতে পারে।






