বিশেষ প্রতিনিধি : আবদুল হালিম মানিক ১৯৭১ সালে ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলায় মালিপাথর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৮১ সালে শালধর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেনীতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেন। মাধ্যমিকে থাকাকালীন প্রত্যেক শ্রেণীতে ছিলেন ফাস্ট বয়। শালধর মোহাম্মদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রথমবারের মত ১৯৮৬ সালে এস.এস.সি পরীক্ষায় প্রথম স্থান পেয়ে স্কুলের সুনাম বৃদ্ধি করেন। ১৯৮৮ সালে পরশুরাম সরকারী কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেনীতে ব্যবস্থাপনায় অনার্স সহ মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন।
ছাত্র অবস্থাতেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ১৯৯০ সালে মরহুম ফকির মমতাজের নেতৃত্বে বিএনপিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখেন। বছর না যেতেই স্বীয় কর্মকান্ডের যোগ্যতায় ১৯৯১ সালে পরশুরাম উপজেলা বিএনপি’র কার্যকরী কমিটির সদস্য পদ দখল করেন। তৎকালে মরহুম ফকির মমতাজ সভাপতি ও হাবিবুর রহমান হাবিব সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৭ সালে বিএনপি সমর্থিত চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে দীর্ঘ ৯ বছর হাইকোর্টে নির্বাচনী মামলা চালিয়ে ২০০৬ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
মামলার আইনজীবী হিসেবে ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মাননীয় চেয়ারপার্সন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রাজনীতির পাশাপাশি আবদুল হালিম মানিক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার (১ম শ্রেনীর কর্মকর্তা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকুরীরত অবস্থায় ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে মরহুম মেজর (অব:) সাঈদ ইস্কান্দার তাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে নিয়ম অনুযায়ী চাকুরী ছেড়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন তিনি। পরবর্তিতে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে আবু তালেব (বড় তালেব)কে সমর্থন দিয়ে তার পক্ষে নির্বাচনে কাজ করেন।
২০০৯ সালে দলের দুর্দিনে উপজেলা বিএনপি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সরকারের অপকর্ম ও দু:শাসনের বিরুদ্ধে সকল দলীয় প্রোগ্রামে অংশ গ্রহন করে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। সংগঠক হিসেবে ২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনের সময় যখন বিস্ফোরক মামলায় দলের শতাধিক নেতা-কর্মী জেলে ছিলেন তখন তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের জামিন না হওয়া পর্যন্ত জেলগেট ও কোর্টে নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ঢাকা দক্ষিন মহানগর যুবদলের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু’র মনোনয়ন প্রস্তাবকারী ছিলেন আবদুল হালিম মানিক। নির্বাচনি কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্ন ভাবে হয়রানির শিকার হন এবং নিজ এলাকায় শালধর বাজারে নির্বাচনী প্রচার কাজ চালানোর সময় প্রতিপক্ষের হামলায় তিনিসহ আটজন নেতাকর্মী আহত হন। তৎকালে হামলাকারীরা উল্টো আবদুল হালিমকে প্রধান আসামী করে ২০/২২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ঐসময় বেশ কয়েকবার তার বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এর বাইরেও তিনি প্রায় ৪টি রাজনৈতিক মামলায় প্রতিনিয়ত আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন।
দলীয় কর্মকান্ডে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখায় এবং দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে থাকাসহ সবকিছু মূল্যায়ন করে দলের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ আবদুল হালিম মানিককে ফেনী জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য এবং নবগঠিত পরশুরাম উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক নির্বাচিত করেন।
ব্যক্তি জীবনে আবদুল হালিম মানিক ছোটবেলা থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক, ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজসহ মানব সেবায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।
২০০০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা বিশ বৎসর শালধর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সদস্য, সহ-সভাপতি ও সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। মরহুম মেজর (অব:) সাঈদ ইস্কান্দার ২০০৪-২০০৯ পর্যন্ত সভাপতি থাকাকালীন হালিম চেয়ারম্যান সহ-সভাপতি পরবর্তীতে ২০১২-২০১৫ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালন কালে তিনি মাদ্রাসার উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। শতভাগ সচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে দক্ষ মেধাবী শিক্ষক নিয়োগদানের মাধ্যমে উক্ত মাদ্রাসাকে ফেনীর উত্তর অঞ্চলের মডেল হিসবে গড়ে তুলেন। একইসাথে তিনি শালধর ছিদ্দীকিয়া হাফেজিয়া এতিমখানা এবং মালীপাথর বহুমুখী কল্যান সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতির কাষ্ঠা কাষ্ঠে নিয়োজিত থাকলেও মানবতার সেবা থেকে বঞ্চিত রাখেননি নিজেকে। তিনি সংগঠক হিসেবে নেতাকর্মীদের আগলে রাখার পাশাপাশি অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেশের সকল দূর্যোগকালীন এবং তার পরবর্তী সময় সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ত্রাণ ও বস্ত্র সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন গরীব ও অসহায়দের মাঝে।একজন রাজনীতিক হিসেবে পুর্ন দক্ষতার ছাপ রাখছেন সংগঠনে। সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী এবং ক্রীড়া সংগঠনের পাশে নিয়োজিত রাখছেন নিজেকে। তিনি তার উপজেলায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও দুর্যোগে পরোক্ষ এবং প্রত্যাক্ষভাবে আর্থিক সহ বিভিন্ন সহযোগীতা অব্যাহত রেখেছেন।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী “নোভেল করোনা” ভাইরাস মোকাবিলায় নিজ উপজেলার কর্মহীন নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন।






