সাজ্জাদ হোসেনঃ ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে সারা দেশের জেলা উপজেলায় কাজ করছে সরকার, প্রতিটি অলিতে-গলিতে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। শুধু সরকারিভাবে নয় অনেক অঞ্চলে জেলা-উপজেলা অথবা ইউনিয়ন ওয়ার্ডে ব্যক্তিগতভাবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন অনেকে। তেমনি একজন মানুষ ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ধর্মপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন।
সরকারিভাবে প্রাপ্ত দায়িত্বের কাজ এবং সীমানার সীমাবদ্ধ থাকলেও ব্যক্তিগত কাজে কোনো সীমাবদ্ধতা রাখেননি তিনি। নিজের ওয়ার্ড রেখে অন্য ওয়ার্ডে, সরকারি বরাদ্দের বাইরে ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে সরকারের উন্নয়নের সাথে যুক্ত রেখেছেন নিজেকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার বাইরে ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে বিভিন্ন সড়কে ইটের সলিং, গার্ডওয়াল, কালভার্ট, ড্রেনেজ নির্মানের কাজসহ অসংখ্য উন্নয়নমুলক কাজ করেছেন তার নিজস্ব তহবিল থেকে।
এ ধারাবাহিকতায় ওয়ার্ডের মকবুল আমিনের বাড়ির রাস্তা বর্ষার পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবিতে তিনি ঐ রাস্তাটির ইটের সলিং করে দেন। আব্দুর রউফের বাড়ীর সড়কের ইটের সলিং এর কাজও চলমান।
এছাড়াও আসানুল্লাহ বাড়ী সড়ক, কানু আমিন বাড়ী সড়কের ইটের সলিং, এয়ার আহমদ বাড়ি সংলগ্ন কালভার্ট নির্মাণ, ধর্মপুর এডুকেশনাল এস্টেটের ড্রেন নির্মাণ, বাছির মিয়া সড়ক, মজুমদার বাড়ী সড়ক, বেলাল মিয়া বাড়ির সড়ক, বাচ্চু মিয়া বাড়ি সড়ক ও মুক্তিযুদ্ধার জসীম উদ্দীন’র বাড়ির সড়কসহ অসংখ্য সড়ক মেরামত, ইটের সলিং পাকা করন করেছেন তিনি।
ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন জানান, আমার ইউপি সদস্যের মেয়াদ আর বেশিদিন নেই, আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ওয়ার্ডকে পুর আমজাদহাট ইউনিয়নের মধ্যে মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি। সরকারি রাস্তার বরাদ্দ ছাড়াও আমি আমার নিজস্ব তহবিল থেকে আমার ওয়ার্ডের অসংখ্য রাস্তার ইটের সলিং করে দিয়েছি। ওয়ার্ডের জনগন আমাকে খুবই ভালোবাসে, তাদের ভালোবাসায় আমি এতদুর এগিয়ে আসতে পারছি। উন্নয়নগুলো তাদের ভালোবাসারই প্রতিদান।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, মোশারফ হোসেন একজন ভালো মনের মানুষ। আমাদের ব্যক্তিগত যেকোনো সমস্যা, বিয়ের অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সহযোগিতায় যখনই গিয়েছি তখনই সহযোগিতা পেয়েছি। গ্রামের অনেক মানুষই তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছে। কখনো কাউকে অবহেলা বা খালি হাতে ফিরিয়ে দেন নাই। সরকারি বরাদ্দের বাইরে তিনি এলাকায় ব্যক্তিগতভাবে অনেক রাস্তা নির্মাণ করেছেন।
এমন সচ্ছল ও স্বচ্ছ মানুষগুলো দায়িত্বে থাকলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকে, আর বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে দুর্নীতি বন্ধ হয়ে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম মজুমদার ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন সম্পর্কে জানান, একজন ইউপি সদস্য হিসেবে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের বাহিরে ব্যক্তিগতভাবে আরো ছয় গুণ বেশি কাজ করেছে। কারো বাড়ির দরজা উন্নয়নের বাহিরে রাখে নাই। আমার দৃষ্টিতে ফেনী জেলার মধ্যে নিজের টাকায় এলাকার উন্নয়ন করে এমন মেম্বার আর নাই।
তার এই উন্নয়নের ধারাবাহিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা তথা আমজাদহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।






