নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- ফুলগাজীতে ইউনিক আইডির জন্য অনলাইন নিবন্ধন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন, শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ নিয়ে নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে অনেকেই ইউনিক আইডির নিবন্ধন করতে পারা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। এদিকে ইউনিক আইডি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা সমালোচনা।অনলাইনে নিবন্ধিত ভুলেভরা জন্ম সনদের জটিলতার কারণেই দেখা দিয়েছে এই জটিলতা।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেনি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি কার্ড প্রদান করা হবে।
এই লক্ষ্যে অনলাইনে ডাটাবেজ তৈরী তথা নিবন্ধন করতে বেশ কিছু শর্ত জুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আগামী ৩০ মে’র মধ্যে সকল শিক্ষার্থীদের শর্তানুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়ীত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদে সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
একইভাবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্যও প্রযোজ্য। উক্ত কাগজপত্র যথা সময়ে যে দিতে পারবে না, তার আইডি কার্ড হবে না। ভবিষ্যতে যে কোন সমস্যার জন্য উক্ত শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবক দায়ী থাকবেন। এমন নোটিস দিয়েছেন প্রধান শিক্ষকরা।
দেখা গেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অধিকাংশ জন্মনিবন্ধন সনদে নাম, পিতা-মাতা, ঠিকানাগুলো রয়েছে ভুলে ভরা। এই ভুলগুলোর জন্য অনেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তাদের দায়ী করেছেন। তারা ডাটাবেজ তৈরীর সময় ভুল তথ্য সরবরাহ করেছেন। একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তারা ভুল তথ্য সরবরাহ করেছেন। কারণ তারা এই ভুল সংশোধনীর নামে জনগণের কাছ থেকে নানা অংকে টাকা হাতিয়ে নিতে পারেন।
শিক্ষার্থীদের ডাটাবেজ তৈরীর এই সময়ে সংশোধনীর জন্য বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও কম্পিউটার দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সংশোধনী করতে গিয়ে পোহাতে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনা। সার্ভার বন্ধ অথবা সার্ভারে প্রবেশ করলে মা-বাবা জীবিত থাকলেও সার্ভার থেকে চাওয়া হচ্ছে মা-বার মৃত্য তারিখ। আবার সংশোধনের ক্ষেত্রেও জড়িয়ে দেয়া হয়েছে নানা শর্ত। এভাবেই সংশোধন হচ্ছেনা ভুলেভরা জন্মসনদগুলো।এছাড়াও এই কাগজপত্র জমা দিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ভিড় জমাচ্ছেন।
আমজাদহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর হোসেন মীরু জানান- প্রতিদিন আমার পরিষদে অনেক ছাত্র-ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকরা আসতেছে নিবন্ধনের নানা সমস্যা নিয়ে। ইতিমধ্যে আমরা পরিষদের পক্ষ থেকে তাদেরকে দ্রুত সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।
ধর্মপুর এডুকেশনাল এস্টেটের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তির সত্যতা শিকার করে জন্মনিবন্ধন সংশোধন পদ্ধতি সহজ করার দাবি জানিয়েছেন।
মোহাম্মদ দুলাল নামে এক অভিভাবক বলেন, সন্তানের ভুলে ভরা জন্ম সনদ নিয়ে চরম বিপাকে আছি।
অন্যদিকে ২৫ মে (মঙ্গলবার) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির মাধ্যমে জানা যায়-
ক. রক্তের গ্রুপ নির্ণয় বাধ্যতামূলক নয়।
খ. এসএসসি ও এইচএসসি-২০২১ পরীক্ষার্থীদের জন্যেও এটা প্রযোজ্য।
গ. শিক্ষার্থীদের পিতা ও মাতার যে কোনো একজনের NID দিলেও হবে।
ঘ. পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক নয়।
ঙ. শিক্ষার্থীদের জন্ম নিবন্ধন অবশ্যই অনলাইনে হতে হবে।



